আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি ভালোই আছেন। আমি জানি, ইদানীং আমাদের সকলের জীবনে ইন্টারনেটের গুরুত্ব কতটা বেড়েছে। অনলাইন কেনাকাটা থেকে শুরু করে অফিসের কাজ, বন্ধুদের সাথে আড্ডা – সবকিছুতেই এখন ডিজিটাল মাধ্যমই ভরসা। আর এই ডিজিটাল দুনিয়ায় পা রাখার সাথে সাথেই আমাদের অজান্তেই ঘটে যেতে পারে কিছু গুরুতর ভুল, যা আমাদের সাইবার সুরক্ষাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, অনেক সময় ছোটখাটো অসতর্কতাই বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এক ক্লিকেই হয়তো আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চলে যেতে পারে অচেনা কারো হাতে, কিংবা হয়তো র্যানসমওয়্যারের শিকার হয়ে হারতে পারেন আপনার মূল্যবান ফাইলগুলো।বর্তমানে, ফিশিং থেকে শুরু করে উন্নত মানের ম্যালওয়্যার বা এআই-ভিত্তিক সাইবার হামলা – নতুন নতুন বিপদ প্রতিদিন আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। ২০২২-২৫ সাল পর্যন্ত সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যে পরিবর্তনগুলো আমরা দেখছি, তা সত্যিই উদ্বেগজনক। অনেক সময় আমরা ভাবি, “আমার সাথে কি আর এমন হবে?”, কিন্তু বিশ্বাস করুন, সাইবার অপরাধীরা কারো জন্য অপেক্ষা করে না। তাই নিজেদের সামান্য কিছু ভুল শুধরে নিলেই এই জটিল পরিস্থিতিতে অনেকটাই নিরাপদ থাকা সম্ভব। এই ডিজিটাল যুগে টিকে থাকতে হলে আর নিজেদের তথ্য সুরক্ষিত রাখতে হলে কিছু মৌলিক ধারণা থাকা খুবই জরুরি। নিচে আমরা সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কিছু সাধারণ ভুল এবং সেগুলোর কার্যকরী সমাধান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। চলুন, তাহলে দেরি না করে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক!
আশা করি এই লেখাটা আপনাদের সবার উপকারে আসবে। নিচে আরো অনেক দরকারি তথ্য এবং টিপস আছে, সেগুলো আপনাদের অনলাইন জীবনকে আরও সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে। চলুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক!
পাসওয়ার্ডের ভুলে বিপদ: শক্তিশালী সুরক্ষার চাবিকাঠি

আমাদের ডিজিটাল জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাবি হলো পাসওয়ার্ড। অথচ আমরা অনেকেই এই সহজ জিনিসটাকেই সবচেয়ে বেশি অবহেলা করি। আমার নিজের এক বন্ধুকে দেখেছিলাম, তার পাসওয়ার্ড ছিল ‘123456’। ভাবা যায়!
যখন তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলো, তখন সে রীতিমতো আকাশ থেকে পড়লো। আসলে, আমরা ভাবি যে আমাদের অ্যাকাউন্টে এমন কীই বা আছে যা চুরি হবে? কিন্তু সাইবার অপরাধীরা ঠিক এই সুযোগটাকেই কাজে লাগায়। তারা আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য থেকে শুরু করে আর্থিক বিবরণী পর্যন্ত সবকিছু হাতিয়ে নিতে পারে। আর একবার যদি আপনার একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়, তাহলে অন্যান্য অ্যাকাউন্টগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়ে যায়, কারণ অনেকেই সব অ্যাকাউন্টে একই বা কাছাকাছি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ছাড়া অনলাইনে এক পাও এগোনো মানে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনা। তাই চলুন, দেখে নিই এই বিষয়ে আমরা কী কী ভুল করি এবং সেগুলো কীভাবে ঠিক করা যায়।
দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহারের ঝুঁকি
দুর্বল পাসওয়ার্ড মানে হলো সাইবার চোরদের জন্য উন্মুক্ত দরজা। যখন আপনি ‘password123’ বা আপনার জন্মতারিখের মতো সহজ কিছু পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করেন, তখন হ্যাকারদের পক্ষে আপনার অ্যাকাউন্ট অনুমান করা খুবই সহজ হয়ে যায়। আজকালকার উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা সেকেন্ডের মধ্যেই হাজার হাজার পাসওয়ার্ড কম্বিনেশন পরীক্ষা করতে পারে। আর একবার যদি আপনার ইমেল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড তাদের হাতে চলে আসে, তাহলে আপনার বাকি অনলাইন জীবনও তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। চিন্তা করে দেখুন, আপনার ব্যাংকিং তথ্য, অনলাইন শপিং অ্যাকাউন্ট, এমনকি ব্যক্তিগত ছবি আর ভিডিও পর্যন্ত হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই এই সামান্য ভুলটা যেন আপনার জীবনে বড় কোনো ক্ষতির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরির কৌশল
একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করা মোটেই কঠিন কিছু নয়, একটু বুদ্ধি খাটালেই হয়। আমার পরামর্শ হলো, কমপক্ষে ১২-১৪ অক্ষরের একটি পাসওয়ার্ড তৈরি করুন যেখানে বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন যেমন @, #, $, % সবকিছুই থাকবে। যেমন, আপনার প্রিয় গান বা সিনেমার একটি বাক্য নিন এবং সেটিকে একটু পরিবর্তন করে ব্যবহার করুন। “আমার সোনার বাংলা” না লিখে “Am@rS0n@rB@ngl@!” এরকম কিছু তৈরি করতে পারেন। আরেকটি জরুরি বিষয় হলো, প্রতিটি অনলাইন অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা। হ্যাঁ, এটা মনে রাখা হয়তো একটু কষ্টকর, কিন্তু পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপগুলো এই কাজটা অনেক সহজ করে দেয়। আমি নিজে LastPass ব্যবহার করে বেশ উপকৃত হয়েছি। বিশ্বাস করুন, এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো আপনার ডিজিটাল সুরক্ষাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে।
ফিশিং ফাঁদে পা বাড়ানো: চেনা ছদ্মবেশে অচেনা বিপদ
আপনারা অনেকেই হয়তো ‘ফিশিং’ শব্দটার সাথে পরিচিত। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি, এর বিপদটা আমরা যতটা বুঝি, বাস্তবে তার চেয়েও অনেক বেশি জটিল। আমার সাথে একবার এমনটা হয়েছিল যে, একটি জনপ্রিয় ব্যাংকের নামে একটি ইমেইল পেয়েছিলাম, যেখানে বলা হয়েছিল আমার অ্যাকাউন্ট নাকি সাসপেন্ড হয়ে গেছে এবং দ্রুত একটি লিংকে ক্লিক করে তথ্য আপডেট করতে হবে। ইমেইলটা দেখতে এতটাই আসল মনে হয়েছিল যে আমিও প্রায় ক্লিক করেই ফেলেছিলাম!
কিন্তু ভাগ্যিস শেষ মুহূর্তে কিছু অস্বাভাবিকতা আমার চোখে পড়েছিল। এই ঘটনা আমাকে শিখিয়েছে যে, ফিশিং ইমেইল বা মেসেজগুলো কতটা সূক্ষ্মভাবে ডিজাইন করা হয় যাতে আমরা সহজেই বোকা বনে যাই। সাইবার অপরাধীরা নানা অজুহাতে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য যেমন ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ড নম্বর হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। আর এর মাধ্যমে তারা আমাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি করে দেওয়া থেকে শুরু করে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি পর্যন্ত করতে পারে।
ফিশিং ইমেইল ও মেসেজ চেনার উপায়
ফিশিং ইমেইল বা মেসেজ চেনার কিছু সহজ কৌশল আছে। প্রথমত, প্রেরকের ইমেইল ঠিকানাটি খুব ভালো করে দেখুন। অনেক সময় দেখা যায়, আসল ঠিকানার সাথে সামান্য কিছু পার্থক্য থাকে (যেমন, bank@example.com এর বদলে banc@example.com)। দ্বিতীয়ত, ইমেইলের বিষয়বস্তু বা ভাষার দিকে লক্ষ্য করুন। অনেক ফিশিং ইমেইলে ব্যাকরণগত ভুল বা অগোছালো বাক্য থাকে, যা আসল প্রতিষ্ঠানের ইমেইলে সাধারণত থাকে না। তৃতীয়ত, ইমেইলের মধ্যে থাকা লিংকের উপর মাউস নিয়ে যান (ক্লিক না করে), তাহলে দেখবেন আসল লিংকটা কী। যদি লিংকের ঠিকানা পরিচিত ডোমেইন থেকে আলাদা হয়, তাহলে বুঝবেন এটা ফিশিং। চতুর্থত, ইমেইলে যদি খুব বেশি তাগিদ দেওয়া হয় বা জরুরি কিছু করার কথা বলা হয়, তাহলে সন্দেহ করুন। যেমন, “আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে যদি আপনি এখনি ক্লিক না করেন” – এমন বার্তাগুলো প্রায়শই ফিশিংয়ের লক্ষণ।
সন্দেহজনক লিংক এড়ানোর পদ্ধতি
সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করাই হলো নিজেকে ফিশিং থেকে বাঁচানোর সবচেয়ে সহজ উপায়। কোনো ইমেইল বা মেসেজে আসা লিংকে সরাসরি ক্লিক করার আগে ভালো করে যাচাই করে নিন। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ইমেইল আসে এবং তাতে কোনো লিংকে ক্লিক করে তথ্য যাচাই করতে বলা হয়, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সরাসরি গিয়ে লগইন করুন, ইমেইলের লিংকে ক্লিক করার দরকার নেই। আপনি যদি কোনো লিংকের সত্যতা যাচাই করতে চান, তাহলে অনলাইন লিংক স্ক্যানার টুলস ব্যবহার করতে পারেন, যেমন VirusTotal বা Google Safe Browsing। এগুলো আপনাকে লিংকটির নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেবে। সবসময় মনে রাখবেন, যদি কোনো অফার বা মেসেজ অবিশ্বাস্য মনে হয়, তবে সেটি সম্ভবত ফিশিং। আপনার ব্যাংক বা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান কখনোই ইমেইল বা মেসেজের মাধ্যমে আপনার পাসওয়ার্ড বা সম্পূর্ণ ক্রেডিট কার্ড নম্বর জানতে চাইবে না।
সফটওয়্যার আপডেটের অবহেলা: নিরাপত্তার দুর্বল দরজা
আমরা অনেকেই সফটওয়্যার আপডেট করতে আলসেমি করি, তাই না? ভাবি, “এখন কেন, পরে করবো।” আমার মনে আছে, একবার আমার এক আত্মীয় তার উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম অনেকদিন ধরে আপডেট করেননি। ফলাফল?
তার ল্যাপটপটি র্যানসমওয়্যারের শিকার হয়েছিল এবং সব ফাইল এনক্রিপ্ট হয়ে গিয়েছিল। পরে তাকে অনেক টাকা খরচ করে ডেটা রিকভার করতে হয়েছিল। এই ঘটনাটা আমাকে শিখিয়েছে যে, সফটওয়্যার আপডেটগুলো শুধুমাত্র নতুন ফিচার আনার জন্য নয়, বরং এগুলো আমাদের ডিজিটাল সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য। হ্যাকাররা প্রতিনিয়ত সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে বের করে এবং সেই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সিস্টেমে প্রবেশ করে। সফটওয়্যার ডেভেলপাররা যখন এই দুর্বলতাগুলো খুঁজে পান, তখন তারা সেগুলো ঠিক করার জন্য আপডেট প্রকাশ করেন। আপনি যদি সেই আপডেটগুলো ইনস্টল না করেন, তাহলে আপনার সিস্টেমের দরজায় সেই দুর্বলতাগুলো খোলা থেকে যায়, আর সাইবার অপরাধীরা সেই খোলা দরজা দিয়েই ঢুকে পড়ে।
আপডেট কেন জরুরি
সফটওয়্যার আপডেটগুলো মূলত নিরাপত্তার প্যাচ নিয়ে আসে। অর্থাৎ, এগুলো এমন কিছু সংশোধন যা হ্যাকারদের সিস্টেমে ঢোকার পথগুলো বন্ধ করে দেয়। অপারেটিং সিস্টেম, ওয়েব ব্রাউজার, অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার এবং এমনকি আপনার ফোনে থাকা অ্যাপগুলোও নিয়মিত আপডেট করা প্রয়োজন। যখন কোনো নতুন দুর্বলতা (যাকে ‘জিরো-ডে এক্সপ্লয়েট’ বলা হয়) আবিষ্কৃত হয়, তখন অপরাধীরা দ্রুত সেটি কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। এই পরিস্থিতিতে, সফটওয়্যার আপডেটই হলো আপনার একমাত্র প্রতিরক্ষা। আমার নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, যারা নিয়মিত তাদের সিস্টেম আপডেট করেন, তাদের সাইবার হামলার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। একটি পুরোনো অপারেটিং সিস্টেম বা ব্রাউজার ব্যবহার করা মানে হলো, আপনি নিজেকে স্বেচ্ছায় সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলছেন।
নিয়মিত আপডেটের সুফল
নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেটের অনেক সুফল আছে। প্রথমত, এটি আপনার সিস্টেমকে সবচেয়ে আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সজ্জিত করে। দ্বিতীয়ত, আপডেটগুলো প্রায়শই সফটওয়্যারের পারফরম্যান্স উন্নত করে এবং নতুন নতুন ফিচার যোগ করে, যা আপনার কাজকে আরও সহজ ও দ্রুত করে তোলে। তৃতীয়ত, এটি আপনার ডিভাইসের স্থায়িত্ব বাড়ায় এবং ক্র্যাশ হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। তাই, যখনই কোনো আপডেটের নোটিফিকেশন আসে, তখন সেটিকে অবহেলা না করে যত দ্রুত সম্ভব ইনস্টল করে ফেলুন। বেশিরভাগ ডিভাইসে স্বয়ংক্রিয় আপডেটের অপশন থাকে, যা চালু করে রাখলে আপনার কাজ আরও সহজ হয়ে যাবে। শুধু মনে রাখবেন, আপডেট করার আগে নিশ্চিত করুন যে আপনার ইন্টারনেট সংযোগ স্থিতিশীল আছে এবং আপনার ডিভাইসে পর্যাপ্ত চার্জ আছে।
পাবলিক ওয়াইফাই-এর মায়াজাল: গুপ্তচরবৃত্তির সহজ পথ
আমরা যখন কোনো ক্যাফে, বিমানবন্দর বা শপিং মলে যাই, তখন ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই দেখলে আমাদের মুখে হাসি ফোটে, তাই না? আমিও আগে এমনটাই ভাবতাম। কিন্তু আমার এক সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বন্ধু যখন পাবলিক ওয়াইফাই-এর বিপদগুলো নিয়ে বুঝিয়ে বলল, তখন থেকে আমি খুব সাবধানে থাকি। সে বলেছিল, পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্কগুলো সাধারণত এনক্রিপ্ট করা থাকে না বা খুব দুর্বল এনক্রিপশন ব্যবহার করে। এর মানে হলো, ওই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আপনি যা কিছু আদান-প্রদান করছেন – আপনার ইমেইল, পাসওয়ার্ড, ব্যাংকিং লেনদেন – সবকিছুই অন্য কেউ খুব সহজেই দেখে নিতে পারে। এটা অনেকটা প্রকাশ্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে আপনার ব্যক্তিগত চিঠি পড়ার মতো। হ্যাকাররা প্রায়শই পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তথাকথিত “ম্যান-ইন-দ্য-মিডল” আক্রমণ করে, যেখানে তারা আপনার এবং আপনি যে ওয়েবসাইটে ঢুকছেন তার মধ্যে অবস্থান করে আপনার সমস্ত ডেটা চুরি করে।
পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারের ঝুঁকি
পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় আপনার ডেটা অত্যন্ত অরক্ষিত থাকে। একটি উন্মুক্ত নেটওয়ার্কে হ্যাকাররা সহজেই আপনার ব্রাউজিং হিস্টরি, লগইন ক্রেডেনশিয়ালস, এমনকি আপনার ডিভাইসে প্রবেশ করার চেষ্টা করতে পারে। একবার ভেবে দেখুন, আপনি হয়তো অনলাইনে কেনাকাটা করছেন বা আপনার ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করছেন, আর আপনার সমস্ত তথ্য এক অজানা ব্যক্তির হাতে চলে যাচ্ছে। এই কারণেই সাইবার বিশেষজ্ঞরা পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় স্পর্শকাতর কাজ করা থেকে বিরত থাকতে বলেন। এর সাথে আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো, হ্যাকাররা প্রায়শই ভুয়া পাবলিক ওয়াইফাই হটস্পট তৈরি করে, যা দেখতে আসল ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের মতোই মনে হয়, কিন্তু এটি আসলে তাদের ব্যক্তিগত সার্ভার যা আপনার ডেটা চুরি করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
নিরাপদ পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারের টিপস
যদি আপনার পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। প্রথমত, সবচেয়ে ভালো উপায় হলো একটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (VPN) ব্যবহার করা। ভিপিএন আপনার ইন্টারনেট ট্র্যাফিক এনক্রিপ্ট করে, যা হ্যাকারদের পক্ষে আপনার ডেটা পড়া অসম্ভব করে তোলে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ExpressVPN ব্যবহার করি এবং এর সুরক্ষা নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট। দ্বিতীয়ত, পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকুন। তৃতীয়ত, নিশ্চিত করুন যে আপনি যে ওয়েবসাইটগুলোতে যাচ্ছেন সেগুলোর URL ‘https://’ দিয়ে শুরু হচ্ছে, যা বোঝায় যে সংযোগটি এনক্রিপ্ট করা হয়েছে। চতুর্থত, কাজ শেষে ওয়াইফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো নেটওয়ার্কে সংযোগ না নেওয়ার জন্য আপনার ডিভাইসের সেটিংস পরিবর্তন করুন। এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো আপনাকে পাবলিক ওয়াইফাই-এর বিপদ থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখবে।
সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক: কৌতূহল থেকে সর্বনাশ

আমরা সবাই কৌতূহলী, আর এই কৌতূহলই অনেক সময় আমাদের বিপদে ফেলে দেয়। আমার এক বন্ধু একবার একটা মেসেজ পেয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল সে নাকি লটারিতে বিশাল অঙ্কের টাকা জিতেছে এবং টাকা পাওয়ার জন্য একটি লিংকে ক্লিক করতে হবে। সে কৌতূহলবশত লিংকে ক্লিক করে ফেলেছিল, আর তার ফোন মুহূর্তের মধ্যে ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে, যেখানে আকর্ষণীয় কোনো প্রস্তাব বা ভয় দেখিয়ে আমাদের এমন লিংকে ক্লিক করতে বাধ্য করা হয় যা আসলে আমাদের জন্য ক্ষতিকর। এই লিংকগুলো হয়তো আপনাকে কোনো ভুয়া ওয়েবসাইটে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করা হবে, অথবা আপনার ডিভাইসে ম্যালওয়্যার ইনস্টল করে দিতে পারে, যা আপনার অজান্তেই আপনার সমস্ত ডেটা চুরি করবে।
অচেনা লিংকের বিপদ
অচেনা বা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা মানে হলো নিজের অজান্তেই বিপদকে আমন্ত্রণ জানানো। এই লিংকগুলো দেখতে খুব নিরীহ মনে হলেও এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের সর্বনাশ। ক্লিক করার সাথে সাথেই আপনার ডিভাইসে ভাইরাস, ট্রোজান বা র্যানসমওয়্যার ইনস্টল হয়ে যেতে পারে। একবার ভাইরাস ঢুকে গেলে আপনার ডিভাইস ধীরগতি হয়ে যেতে পারে, ফাইল নষ্ট হতে পারে, বা এমনকি আপনার সম্পূর্ণ সিস্টেম বিকল হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে ভয়ংকর হলো, কিছু ম্যালওয়্যার আপনার ডিভাইসের মাইক্রোফোন বা ক্যামেরা অ্যাক্সেস করে আপনার ব্যক্তিগত জীবনের উপর নজরদারি করতে পারে। তাই, যেকোনো লিংকে ক্লিক করার আগে শতবার ভাবুন।
লিংক যাচাই করার অভ্যাস
একটি ভালো অভ্যাস হলো যেকোনো লিংকে ক্লিক করার আগে সেটি যাচাই করে নেওয়া। যদি কোনো ইমেইল, মেসেজ বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কোনো সন্দেহজনক লিংক দেখেন, তাহলে সরাসরি ক্লিক না করে লিংকের উপর মাউস নিয়ে যান (মোবাইলে হলে লিংকটি ট্যাপ করে ধরে রাখুন)। এতে লিংকটির আসল ঠিকানা দেখতে পাবেন। যদি ঠিকানাটি পরিচিত বা নির্ভরযোগ্য মনে না হয়, তাহলে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। আরেকটি কৌশল হলো, লিংকের ঠিকানা কপি করে Google-এ সার্চ করা। এতে যদি লিংকটি কোনো ফিশিং বা ম্যালওয়্যার সাইটের সাথে যুক্ত থাকে, তাহলে আপনি হয়তো এর সম্পর্কে সতর্কবার্তা খুঁজে পাবেন। মনে রাখবেন, তাড়াহুড়ো করে কোনো লিংকে ক্লিক করা মানে নিজের সুরক্ষাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেওয়া। আপনার কৌতূহল আপনার সুরক্ষা থেকে বড় নয়!
ব্যাকআপের অভাব: ডিজিটাল সম্পদ হারানোর ভয়
আমরা আমাদের মোবাইল বা কম্পিউটারে কত শত মূল্যবান ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্ট বা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল রাখি, তাই না? কিন্তু যদি হঠাৎ করে আপনার ডিভাইস নষ্ট হয়ে যায় বা হারিয়ে যায়?
আমার এক সহকর্মী তার এক দশকেরও বেশি সময়ের ছবি হারিয়ে ফেলেছিলেন কারণ তার ল্যাপটপ ক্র্যাশ করেছিল আর তার কোনো ব্যাকআপ ছিল না। সেদিন তার মুখ দেখে বুঝেছিলাম, ডিজিটাল সম্পদ হারানোর বেদনা কতটা তীব্র হতে পারে। আমরা সবাই ভাবি, “আমার সাথে তো এমন হবে না”, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা যে কারো সাথেই ঘটতে পারে। ডিভাইসের ত্রুটি, চুরি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সাইবার হামলা – যেকোনো কারণেই আপনার মূল্যবান ডেটা এক নিমেষে উধাও হয়ে যেতে পারে। আর একবার ডেটা হারিয়ে গেলে তা ফিরে পাওয়া কতটা কঠিন বা অসম্ভব, তা শুধু ভুক্তভোগীরাই জানেন।
ডেটা ব্যাকআপের প্রয়োজনীয়তা
ডেটা ব্যাকআপ নেওয়া আপনার ডিজিটাল জীবনের জন্য একটি বীমার মতো। এটি নিশ্চিত করে যে আপনার মূল্যবান ফাইলগুলো সুরক্ষিত আছে, এমনকি যদি আপনার মূল ডিভাইসটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা হারিয়ে যায়। শুধু ছবি বা ভিডিও নয়, আপনার অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট, স্কুলের অ্যাসাইনমেন্ট, ব্যক্তিগত নোটবুক – সবকিছুই ব্যাকআপ করে রাখা উচিত। নিয়মিত ব্যাকআপ থাকলে আপনি যেকোনো সময় আপনার ডেটা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন এবং মানসিক শান্তি উপভোগ করতে পারবেন। আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ হলো, শুধু একটি নয়, একাধিক জায়গায় ব্যাকআপ রাখুন – যাকে বলা হয় 3-2-1 ব্যাকআপ নিয়ম। অর্থাৎ, আপনার ডেটার তিনটি কপি রাখুন, দুটি ভিন্ন মিডিয়াতে এবং একটি অফসাইট (যেমন ক্লাউড স্টোরেজ)।
কার্যকরী ব্যাকআপ পদ্ধতি
বর্তমানে ডেটা ব্যাকআপের জন্য অনেক সহজ এবং কার্যকর উপায় আছে। আপনি আপনার ফাইলগুলো একটি এক্সটার্নাল হার্ড ড্রাইভ বা ইউএসবি ড্রাইভে কপি করে রাখতে পারেন। এটি একটি সহজ এবং স্বল্প খরচের সমাধান। তবে, আমি সবচেয়ে বেশি সুপারিশ করি ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিসগুলো ব্যবহার করতে। গুগল ড্রাইভ, ড্রপবক্স, ওয়ানড্রাইভ বা আইক্লাউডের মতো পরিষেবাগুলো আপনার ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্লাউডে সেভ করে রাখে, যা যেকোনো জায়গা থেকে অ্যাক্সেস করা যায় এবং এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকেও সুরক্ষিত থাকে। কিছু পরিষেবা আপনাকে বিনামূল্যে সীমিত স্টোরেজ দেয়, যা আপনার ব্যক্তিগত ফাইলের জন্য যথেষ্ট হতে পারে। আমি নিজে গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করি এবং আমার মোবাইল থেকে সবকিছু স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাকআপ হয়ে যায়। নিয়মিত ব্যাকআপের সময়সূচী তৈরি করুন এবং তা অনুসরণ করুন, যাতে আপনার ডেটা সবসময় আপ-টু-ডেট থাকে।
| সাইবার হুমকি | কীভাবে চিনবেন | প্রতিরোধের উপায় |
|---|---|---|
| ফিশিং | ভুয়া ইমেইল বা মেসেজ, বানান ভুল, সন্দেহজনক লিংক | লিংক যাচাই করা, সরাসরি অফিসিয়াল সাইটে লগইন করা |
| ম্যালওয়্যার | সিস্টেম ধীরগতি, অচেনা পপ-আপ, ফাইল এনক্রিপশন | অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার, সন্দেহজনক ফাইল ডাউনলোড না করা, সফটওয়্যার আপডেট |
| দুর্বল পাসওয়ার্ড | সহজ অনুমানযোগ্য পাসওয়ার্ড (যেমন 123456, password) | শক্তিশালী, জটিল এবং অনন্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার |
| পাবলিক ওয়াইফাই | এনক্রিপ্টবিহীন নেটওয়ার্ক, তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি | ভিপিএন ব্যবহার, সংবেদনশীল কাজ এড়িয়ে চলা, HTTPS সাইট ব্যবহার |
| সফটওয়্যার দুর্বলতা | আউটডেটেড অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ্লিকেশন | নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করা, স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু রাখা |
অনলাইন কেনাকাটায় সতর্কতা: সুরক্ষিত লেনদেনের উপায়
অনলাইন কেনাকাটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। আমিও অনলাইন শপিং করতে খুব ভালোবাসি, কারণ ঘরে বসেই পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে পছন্দের জিনিস কেনা যায়। কিন্তু এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত কিছু ঝুঁকি, যা নিয়ে আমাদের সচেতন থাকা উচিত। আমার এক বন্ধু একবার একটা অফার দেখে ভুয়া ওয়েবসাইটে তার ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দিয়ে ফেলেছিল, আর তার কার্ড থেকে অননুমোদিত লেনদেন হয়ে গিয়েছিল। সেই দিন থেকে আমরা সবাই আরও সতর্ক হয়ে গেছি। সাইবার অপরাধীরা ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে বা লোভনীয় অফার দিয়ে আমাদের আকৃষ্ট করে আমাদের আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এই ধরনের জালিয়াতির শিকার হলে শুধু আপনার টাকা নয়, আপনার ব্যক্তিগত পরিচয়ও হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই অনলাইন কেনাকাটার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
নিরাপদ অনলাইন শপিংয়ের টিপস
অনলাইনে সুরক্ষিতভাবে কেনাকাটা করার জন্য কিছু সহজ টিপস অনুসরণ করতে পারেন। প্রথমত, সবসময় নির্ভরযোগ্য এবং পরিচিত ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটা করুন। যদি কোনো ওয়েবসাইটের অফার অবিশ্বাস্য মনে হয়, তবে সেটি সম্ভবত ভুয়া। দ্বিতীয়ত, ওয়েবসাইটের URL পরীক্ষা করুন। নিশ্চিত করুন যে URL ‘https://’ দিয়ে শুরু হয়েছে, এবং পাশে একটি তালা আইকন আছে। এটি বোঝায় যে আপনার ডেটা এনক্রিপ্ট করা হচ্ছে। তৃতীয়ত, অপরিচিত ওয়েবসাইটে আপনার ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দেওয়ার আগে ওয়েবসাইটের রিভিউ এবং রেটিং দেখে নিন। চতুর্থত, শক্তিশালী এবং অনন্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন আপনার অনলাইন শপিং অ্যাকাউন্টগুলোর জন্য। যদি কোনো ওয়েবসাইটে আপনি গেস্ট হিসেবে কেনাকাটা করার সুযোগ পান, তবে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার ঝুঁকি কমাতে সেই অপশনটি ব্যবহার করতে পারেন।
পেমেন্ট গেটওয়েতে সাবধানতা
অনলাইন পেমেন্ট করার সময় আমরা অনেকেই তাড়াহুড়ো করি। কিন্তু এই সময়টাই সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যখন আপনি পেমেন্ট করার জন্য প্রস্তুত হবেন, তখন দেখুন পেমেন্ট গেটওয়েটি নিরাপদ কি না। অনেক সময় সুরক্ষিত পেমেন্ট গেটওয়েতে রিডাইরেক্ট করা হয়, যেখানে URL ‘https://’ থাকে এবং আপনার ব্যাংকের লোগো দেখা যায়। ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করার সময়, CVV বা CVC নম্বর শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন, যদি না আপনি শতভাগ নিশ্চিত হন যে এটি একটি বিশ্বস্ত সাইট। পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করে অনলাইন পেমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন। যদি সম্ভব হয়, ভার্চুয়াল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করুন, যা আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমাণের টাকা লেনদেনের জন্য একটি অস্থায়ী কার্ড নম্বর দেয়। মোবাইল পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করার সময়ও টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করে রাখুন, যা আপনার লেনদেনকে আরও সুরক্ষিত করবে। এই ছোট ছোট সতর্কতাগুলো আপনাকে অনলাইন শপিংয়ের আনন্দ উপভোগ করতে সাহায্য করবে, পাশাপাশি আপনার আর্থিক তথ্যও সুরক্ষিত রাখবে।
글을মাচি며
আজকের এই আলোচনায় আমরা সাইবার সুরক্ষার কত গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে কথা বললাম, তাই না? আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই টিপসগুলো আপনাদের অনলাইন জীবনকে আরও নিরাপদ করতে দারুণভাবে সাহায্য করবে। আমি নিজে যখন এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রথম কাজ করা শুরু করি, তখন মনে হয়েছিল সবকিছুই খুব জটিল। কিন্তু ধীরে ধীরে যখন প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করতে শুরু করলাম, দেখলাম যে আসলে নিরাপত্তা বজায় রাখাটা অসম্ভব কিছু নয়, বরং একটু সচেতনতা আর সঠিক অভ্যাসের ব্যাপার। অনলাইন জগতটা যেমন সম্ভাবনাময়, তেমনই এর আনাচে-কানাচে লুকিয়ে আছে নানা বিপদ। তাই, এই ডিজিটাল যুগে আমাদের নিজেদের এবং আমাদের প্রিয়জনদের সুরক্ষার দায়িত্বটা আমাদের নিজেদেরই নিতে হবে। বিশ্বাস করুন, প্রতিটি ছোট পদক্ষেপই আপনাকে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। এই পথচলায় আমি সবসময় আপনাদের পাশে আছি, যেকোনো প্রয়োজনে প্রশ্ন করতে দ্বিধা করবেন না।
알া দুমুনে সুলো ইনফ্র
১. আপনার অনলাইন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডগুলো নিয়মিত পরিবর্তন করুন এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটা আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের প্রথম সুরক্ষা স্তর।
২. ফিশিং ইমেইল বা মেসেজ চেনার কৌশলগুলো ভালোভাবে রপ্ত করুন। কোনো লিংকে ক্লিক করার আগে প্রেরকের ঠিকানা এবং লিংকের ইউআরএল খুব সতর্কতার সাথে যাচাই করে নিন।
৩. আপনার অপারেটিং সিস্টেম, ব্রাউজার এবং সমস্ত অ্যাপ্লিকেশন সবসময় আপডেটেড রাখুন। এই আপডেটগুলো প্রায়শই নতুন নিরাপত্তা প্যাচ নিয়ে আসে যা আপনাকে সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
৪. পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন। সম্ভব হলে ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করুন এবং এই ধরনের নেটওয়ার্কে ব্যক্তিগত বা আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকুন।
৫. আপনার গুরুত্বপূর্ণ ডেটা যেমন ছবি, ভিডিও এবং ডকুমেন্টগুলোর নিয়মিত ব্যাকআপ নিন। হার্ড ড্রাইভ বা ক্লাউড স্টোরেজ, যেখানেই রাখুন না কেন, নিশ্চিত করুন যে আপনার ডেটা সুরক্ষিত আছে।
জুম্মো শাড়ী সঙ্গি
আজকের ডিজিটাল বিশ্বে সুরক্ষিত থাকাটা এখন আর ঐচ্ছিক ব্যাপার নয়, এটা একরকম মৌলিক প্রয়োজন। আমাদের নিজেদের সামান্য অসতর্কতা বা ভুল ধারণাই বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার থেকে শুরু করে ফিশিং ফাঁদে পা দেওয়া, সফটওয়্যার আপডেট না করা, পাবলিক ওয়াইফাই-এর বিপদ না বোঝা কিংবা ডেটা ব্যাকআপের অভাব — এই প্রতিটি ভুলই আমাদের সাইবার সুরক্ষাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। মনে রাখবেন, অনলাইন নিরাপত্তা একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন হুমকির আবির্ভাব হচ্ছে, তাই আমাদেরও সে অনুযায়ী নিজেদের জ্ঞান এবং অভ্যাস আপডেট করে চলতে হবে। প্রতিটি ইমেইল, প্রতিটি লিংক এবং প্রতিটি অনলাইন লেনদেনের সময় একটু বাড়তি মনোযোগ দিন। আপনার সচেতনতাই হলো সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে আপনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি নিরাপদ অনলাইন জগত গড়ে তুলি।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖
প্র: বর্তমানে আমরা কোন ধরনের সাইবার আক্রমণের শিকার হওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকি?
উ: আমি নিজের চোখেই দেখেছি, ইদানীং সাইবার অপরাধীরা কতটা নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে। আগে শুধু ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার নিয়ে ভয় পেতাম, কিন্তু এখন এর ধরন অনেকটাই বদলে গেছে। বর্তমানে, ফিশিং আক্রমণ সবথেকে বেশি হয়। ইমেইল, মেসেজ বা ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনাকে লোভনীয় অফার দেখিয়ে বা জরুরি অবস্থার ভয় দেখিয়ে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন – পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ডের বিবরণ চুরি করে নেয়। একবার আমার এক পরিচিত বন্ধুও এমন একটা ফিশিং ইমেইলের শিকার হয়েছিলেন, যেখানে নামীদামি একটি কুরিয়ার কোম্পানির নাম ব্যবহার করে তাকে একটি লিংকে ক্লিক করতে বলা হয়েছিল। ক্লিক করার পরই তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া হয়, ভাগ্যিস তিনি সন্দেহ করে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন!
এছাড়াও, র্যানসমওয়্যারও খুব মারাত্মক। এর আক্রমণে আপনার সব ফাইল এনক্রিপ্ট হয়ে যায় এবং সেগুলো ফিরে পেতে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। ডেটা ব্রিচ, যেখানে বড় বড় কোম্পানির সার্ভার থেকে তথ্য চুরি হয়, সেটাও একটা বড় ঝুঁকি। আর এখন তো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করেও নতুন ধরনের হামলা হচ্ছে, যা শনাক্ত করা অনেক কঠিন। তাই সব সময় সতর্ক থাকাটা খুবই জরুরি।
প্র: অনলাইনে আমরা সাধারণত কী কী ছোটখাটো ভুল করি, যা আমাদের সাইবার নিরাপত্তাকে বড় ঝুঁকিতে ফেলে দেয়?
উ: এই প্রশ্নটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ! আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আমরা অনেকেই অজান্তেই এমন কিছু ভুল করি যা সাইবার অপরাধীদের জন্য দরজা খুলে দেয়। সবচেয়ে বড় ভুল হলো দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা বা একই পাসওয়ার্ড বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা। ভাবুন তো, যদি আপনার একটি অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ফাঁস হয়ে যায়, তাহলে বাকি সবগুলো অ্যাকাউন্টও ঝুঁকিতে পড়ে যায়!
আমার এক ভাইয়ের এমন হয়েছিল, তার জন্মতারিখ দিয়ে রাখা সহজ পাসওয়ার্ডের কারণে তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয়ত, অচেনা লিংকে ক্লিক করা বা অজানা সোর্স থেকে ফাইল ডাউনলোড করা। অনেক সময় লোভনীয় কোনো বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলেই আপনার ডিভাইসে ম্যালওয়্যার ঢুকে যেতে পারে। এছাড়াও, পাবলিক Wi-Fi ব্যবহার করার সময় সতর্ক না থাকা, সফটওয়্যার আপডেট না করা (কারণ আপডেটগুলোতে নতুন সিকিউরিটি প্যাচ থাকে), এবং টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু না করাও মারাত্মক ভুল। এই ছোট ছোট অসতর্কতাগুলোই আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হওয়ার বা ডিভাইসে ভাইরাস ঢোকার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্বাস করুন, সামান্য একটু মনোযোগ দিলেই কিন্তু এই বিপদগুলো এড়ানো সম্ভব।
প্র: আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে সুরক্ষিত রাখতে হলে আমরা মৌলিকভাবে কী কী পদক্ষেপ নিতে পারি?
উ: আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এই ডিজিটাল যুগে অপরিহার্য। আমি নিজে যে বিষয়গুলো নিয়মিত মেনে চলি এবং অন্যদেরও পরামর্শ দিই, সেগুলো খুবই সহজ। প্রথমত, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, শক্তিশালী ও ইউনিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা। প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড তৈরি করুন এবং সেগুলোতে বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্নের মিশ্রণ রাখুন। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা এক্ষেত্রে খুবই উপকারী। দ্বিতীয়ত, যেখানেই সম্ভব টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) চালু করুন। এটি আপনার অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় একটি বাড়তি স্তর যোগ করে, এমনকি যদি আপনার পাসওয়ার্ড ফাঁসও হয়ে যায়, তবুও কেউ সহজে প্রবেশ করতে পারবে না। আমি নিজেও আমার সব গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে এটা ব্যবহার করি এবং সত্যিই এটি আমাকে নিশ্চিন্ত রাখে। তৃতীয়ত, অজানা ইমেইল বা লিংকে ক্লিক করার আগে ভালো করে যাচাই করুন। সন্দেহজনক মনে হলে সরাসরি মুছে ফেলুন। চতুর্থত, আপনার অপারেটিং সিস্টেম এবং সব সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করুন। আপডেটগুলোতে প্রায়শই নতুন নিরাপত্তা প্যাচ থাকে যা পরিচিত দুর্বলতাগুলো ঠিক করে। পঞ্চমত, একটি ভালো অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করুন এবং নিয়মিত আপনার ডিভাইস স্ক্যান করুন। সবশেষে, আপনার ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে শেয়ার করার আগে দু’বার ভাবুন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত তথ্য কখনোই দেবেন না। এই মৌলিক বিষয়গুলো মেনে চললে আপনার অনলাইন জীবন অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকবে, এটা আমি নিশ্চিত!






